April 19, 2026, 1:04 pm

চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা স্বামী গ্রেফতার

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে স্বামী। রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় স্ত্রী দোলন অধিকারীকে (২৫) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কালিভাারদহ গ্রামের হিন্দুপাড়ায় বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মাথায় পার্শ্ববর্তী জেলা ঝিনাইদহ থেকে ধারালো অস্ত্রসহ স্বামী জসিম অধিকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আহত দোলনের শয্যাপাশে থাকা প্রতিবেশিরা বলেন, জসিম অধিকারী পেশায় একজন নরসুন্দর (নাপিত)। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে স্বামী জসিম মারধর করত স্ত্রী দোলনকে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘরে আটকে রেখে দোলনের গলায় ছুরি দিয়ে পোঁচাতে থাকে স্বামী জসিম। এ সময় দোলনের চিৎকার প্রতিবেশিরা ছুটে এলে জসিম অধিকারী পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত জখম ও গুরুতর অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় দোলন অধিকারীকে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘দোলনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার গলার কয়েকটি শিরা কেটে গেছে। গলায় অসংখ্য সেলাই দেয়া হয়েছে। আমরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠানো লাগতে পারে।’ চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ খান বলেন, ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মাথায় দুপুরে ঝিনাইদহ জেলার মহাম্মদপুর গ্রাম থেকে অভিযুক্ত জসিমকে ধারালো চাকুসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। জসিমের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা